নামজারী (মিউটেশন) কি? কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
নামজারী, যা মিউটেশন নামেও পরিচিত, হলো জমির মালিকানা পরিবর্তনের একটি আইনি প্রক্রিয়া। সাধারণত, যখন জমির মালিকানা বিক্রয়, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্তি বা দানপত্রের মাধ্যমে পরিবর্তন হয়, তখন নতুন মালিককে সরকারি রেকর্ডে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এটাই হলো নামজারী। এটি করার মাধ্যমে নতুন মালিক সরকার স্বীকৃত মালিক হিসেবে বিবেচিত হন এবং জমির খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) দিতে পারেন।
নামজারী করতে কী কী লাগে? নামজারী করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র ও প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এগুলো হলো:
নামজারী আবেদন ফরম – সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হয়।
জমির দলিল – বিক্রয় দলিল, হেবানামা (দানপত্র) বা উত্তরাধিকার সনদ।
খারিজখতিয়ান/সার্ভে খতিয়ান – বর্তমান মালিকানার তথ্য নিশ্চিত করার জন্য।
দলিলের স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশন সনদ – জমির ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম সনদ – জমির নতুন মালিকের পরিচয় নিশ্চিত করতে।
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদ – জমির খাজনা পরিশোধ করা আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে।
উত্তরাধিকারীদের ক্ষেত্রে ওয়ারিশান সনদ – জমি যদি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়।
দুদক বা রাজস্ব বোর্ড অনুমোদন (যদি প্রযোজ্য হয়) – বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে।
সংশ্লিষ্ট মৌজার ম্যাপ ও পর্চা – স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে সংগ্রহ করা যায়।
নামজারী কে করতে পারবে? যে কেউ যিনি জমির প্রকৃত মালিক (বিক্রয়, উত্তরাধিকার, দান বা আদালতের আদেশের মাধ্যমে) তিনিই নামজারীর জন্য আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া, আবেদনকারী সরাসরি করতে না চাইলে, তার আইনজীবী বা প্রতিনিধিও নামজারী আবেদন করতে পারেন।
নামজারী কোথায় এবং কিভাবে করতে হয়? নামজারী করার জন্য নিম্নলিখিত ধাপে কাজ করতে হবে:
অনলাইনে বা সরাসরি আবেদন করুন
অনলাইনে নামজারী করতে পারেন https://land.gov.bd or https://mutation.land.gov.bd/ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।
সরাসরি আবেদন করতে স্থানীয় উপজেলা ভূমি অফিস বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে যেতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন
ওপরের তালিকা অনুযায়ী সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে।
নামজারী ফি পরিশোধ করুন
ফি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে অথবা অনলাইনে পরিশোধ করতে পারবেন।
তদন্ত ও শুনানি
ভূমি অফিস কর্তৃক তদন্ত করা হবে এবং শুনানির মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
নামজারী অনুমোদন ও রেকর্ড হালনাগাদ
অনুমোদনের পর জমির নতুন মালিকের নাম সরকারি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নামজারী করতে কত টাকা লাগে? নামজারীর খরচ নির্ভর করে জমির পরিমাণ, অবস্থান ও অন্যান্য ফি’র ওপর। সাধারণত:
আবেদনের ফি: ১৫০০-২০০০ টাকা (অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে)
জমির পরিমাণ ও শ্রেণি অনুযায়ী খাজনা ফি
নকল তোলার জন্য আলাদা ফি লাগতে পারে
সঠিক ফি জানতে স্থানীয় ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন।
নামজারী না করলে কী সমস্যা হতে পারে? নামজারী না করলে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো হতে পারে:
আইনি জটিলতা – জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন না, ফলে ভবিষ্যতে বিরোধ দেখা দিতে পারে।
জমি বিক্রির সমস্যা – রেকর্ডে আপনার নাম না থাকলে জমি বিক্রি করতে পারবেন না।
সরকারি সুবিধা পাওয়া কঠিন – জমির উন্নয়নের জন্য ব্যাংক ঋণ, ক্ষতিপূরণ বা অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে সমস্যা হতে পারে।
ভূমি কর পরিশোধ করতে অসুবিধা – সরকারি নথিতে আপনার নাম না থাকলে কর পরিশোধ বা জমির মালিকানার দাবি করা কঠিন হতে পারে।
নামজারী বা ভূমি সংক্রান্ত তথ্য কোথায় পাবো? নামজারী সংক্রান্ত তথ্যের জন্য নিচের ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন:
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট: https://land.gov.bd
ভূমি হেল্পলাইন: ১৬১২২
উপজেলা ভূমি অফিস বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস
জেলা প্রশাসকের ভূমি সংক্রান্ত বিভাগ
জেলা সেটেলমেন্ট অফিস (জমির রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্যের জন্য)
নামজারী একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা জমির সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করে এবং ভবিষ্যতে আইনি সমস্যা এড়াতে সহায়ক। তাই, জমি কেনার পর দ্রুত নামজারী করে নেওয়া উচিত।


Post a Comment